সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

একুশের কণ্ঠ প্রতিবেদন:: সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর অপপ্রয়োগ চান না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধনের জন্য তৈরি করা খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি ও আইটি এক্সপার্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আইনটি যেন নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত কম্পাইল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিশ্ব সংবাদপত্র সংগঠন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের বৈঠকটি ছিল তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক। আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।

গণমাধ্যম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সাইবার এক্সপার্ট ও মিডিয়া প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরও মতামত নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনে সেভিং ক্লজ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। বিষয়টি উপযুক্ত মনে হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যে সুপারিশগুলো আসবে, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশগুলো সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইটি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সমন্বয় করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার এক্সপার্টদের একটি প্যানেলও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে। আশা করছি আমরা ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই রিকমেন্ডেশনগুলো পাবো। ১৫ দিন পরে আমরা সেটা অফিসিয়ালি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবো।

এরপর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনো মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং এরপর কেবিনেটে বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। কেবিনেট অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে যাবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না। সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা সেখানে আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারবো, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে আমরা রক্ষা করতে পারবো।

সাইবার স্পেসে বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন অক্ষুণ্ন রেখে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com