মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০১টি পূজামণ্ডপে সরকারি তহবিলের চাল ও ঢাকা জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা আব্দুল ওয়াছেক মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন,পতিত স্বৈরাচার ও গুপ্তরা এক হয়ে যাতে দেশকে অস্থিতিশাল করতে পূজামন্ডপকে টার্গেট না করে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের জননী ঘোষনা দিয়েছেন দেশে আসবেন। তিনি আসুন। সমস্যা কি? জনগণ চাইলে আসবেন। পরিবেশ ঘোলা করতে চাইলে দেশের মানুষ বসে থাকবে না। দেশটাকে নরকে পরিণত করে এখনো ক্ষ্যান্ত হননি।

এসময় তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। সবাইকে সর্তক থেকে পূজার উৎসব পালন করতে হবে। আইনশৃংখলা বাহিনী ও দলের নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে এ উৎসবকে সম্পন্ন করতে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি আশফাক খন্দকার বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় উৎসব সমাপ্ত করেই এলাকা ত্যাগ করবো। রাত জেগে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিটি মন্দিরে ঘুরে দেখবো। স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা যাতে নাশকতা সৃষ্টির সুযোগ না পায়। এমপি হিসেবে নয়, হিন্দু মহল্লায় আমার বেড়ে উঠা। তাই তাদের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে পারে একটি গোষ্ঠি। সেই উগ্রবাদীদের প্রতি নজরদারি রাখতে হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি পূজামন্ডপকে সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। এ সমাজের হিন্দুরা আমাদেরই প্রতিবেশী ও আপনজন। তাদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ২০১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে সরকারি তহবিল থেকে ৬০০ কেজি করে চাল এবং ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
সভায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সমন্বিত ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে একই দিন দোহারে ৪২টি পূজামন্ডপের কমিটির হাতে সরকারী অনুদান ও জেলা পরিষদের অর্থ তুলে দেন খন্দকার আবু আশফাক এমপি।
এসময় বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইয়াছিন খন্দকার, ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, উপজেলা পূজা কিমিটর সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার, ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি জহিরুল ইসলামসহ র্যাব এবং আনসার বাহিনীর প্রতিনিধি। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলার ইউএনও মাইদুল ইসলাম, নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট নওসীনা আরিফ, ওসি দোহার আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি নেতা আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, যুবদলের ঢাকা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বেপারী, সাবেক ছাত্রদল নেতা হায়দার আলী হিরু, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম নিরব প্রমুখ।