মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: রংপুরে কাঁঠালি চাঁপা দুর্লভ প্রকৃতির ফুল। এর আদিভূমি দক্ষিণ চীন, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও ভারতবর্ষে হলেও এক সময় বর্ষায় আমাদের দেশে এই উদ্ভিদের ফুল প্রচুর দেখা যেত। এখন গাছের দেখা পাওয়া গেলেও সহজে ফুলের দেখা মেলে না কাঁঠালিচাঁপার।
জলবায়ুর পরিবর্তনসহ নানা কারণে এই ফুল হারিয়ে যেতে বসেছে। বেশ খোঁজাখুুঁজির পরে কাঁঠালি চাঁপার সন্ধান পাওয়া গেল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এই ফুল বেশি হয়। অর্থাৎ গরম ও বৃষ্টি দুটোই প্রিয় কাঁঠালি চাপার।
অপরিণত ফুলের রঙ কাঁচা সবুজ, পরিণত হলে পাকা পাকা কাঁঠালের সুগন্ধি ছড়ায় বলে এই ফুলকে সহজেই চেনা যায়। রঙ হলদেটে বা সোনালি হলুদ, কাক্ষিক, পাপড়ির সংখ্যা ছয় এবং খোলা। গুচ্ছবদ্ধ ফল গোলাকার, দেখতে অনেকটা আঙুরের থোকার মতো। এই ফল পাখিদের প্রিয় খাবার। তবে এই ফুল পাতায় আবৃত্ত থাকে বলে সহজে দেখা যায় না।
পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ইনচার্জ ও বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, কাঁঠালি চাপাঁ প্রচুর সবুজ পাতাযুক্ত ঝোপালো কাষ্ঠল গাছ। কষ্টসহিষ্ণু এ গাছ টবে এমনকি ঘরের ভেতরে লাগানো যায়। তবে ফুল ফোটার সম্ভাবনা কম থাকে। রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে ফুল ফোটার সম্পর্ক বেশি থাকে। লাজুক প্রকৃতির এ গাছ সহজে পাওয়া গেলেও ফুলের দেখা মেলে না কারণ ফুল পাতার মধ্যে লুকানো থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে ফুল যখন ফোটে তখন এর রঙ সবুজ যা পাতার সঙ্গে মিশে থাকে কিন্তু ফুল যখন হলুদ রংয়ের হয় তখন এর ঘ্রাণ অনেকটা আগের দিনের ব্যানানা চুইংগামের মতো।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে একটি পুরোনো কাঁঠালি চাঁপা চোখে পড়ে। এই শহরের আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। এই গাছে ফুল হওয়ার পর ফলও হয়, যা দেখতে অনেকটা জলপাই-এর মতো। প্রকৃতিতে যখন বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকে তখন ফুল বেশি দেখা যায়।