রবিবার, ১৯ Jul ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাণীশংকৈলে সোনার মূর্তি আর পুরোনো কয়েনের ফাঁদ, তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভাই-বোন গ্রেপ্তার

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ॥
সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা (কয়েন) পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি সোনালি রঙের মূর্তি, পাঁচটি পুরোনো ধাঁচের কয়েন এবং একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) এবং তাঁর ফুফাতো বোন মোছা. সীমা বেগম (৩২)।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিম বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো কয়েন বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। ওই দিন বাকি টাকা পরিশোধ করলে প্রতিশ্রুত মূর্তি ও কয়েন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাণীশংকৈল উপজেলার কোচল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর আলম ও সীমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বারান্দার পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছয়টি সোনালি রঙের গোপাল ঠাকুরের মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের পুরোনো কয়েন এবং প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি পিতলসদৃশ পুরোনো কলস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সোনার মূর্তি ও মূল্যবান পুরোনো মুদ্রা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর সহজে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।

তিনি আরও জানান, থানার নথি পর্যালোচনায় সীমা বেগমের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আগেও একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া মূর্তি, কয়েন ও কলসের প্রকৃত উপাদান ও মূল্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রতারণার নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com