রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক::
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ৬ কোটি টাকার অধিক অর্থপাচারের মামলার ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ কেটি টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন।
আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছেন দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে, এজন্য তিনি খালাস পাবেন। এর আগে মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ, বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলী রেলওয়ের সিগন্যালিং আধুনিকীকরণের টেন্ডার পান। কিন্তু কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় মামুন তার কাছে অবৈধ কমিশন দাবি করেন। নতুবা কার্যাদেশ বাতিল করার হুমকি দেন। ওই হুমকি দিয়ে মামুন ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৬ কোটি এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ থেকে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে পাচার করেন। এই অভিযোগে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। পরের বছর ২৬ এপ্রিল ওই একই ব্যক্তি মামলাটি তদন্ত করে মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
বিগত তত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে আরেকটি অর্থপাচার মামলায় একই আদালত ২০১৩ সালে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।