বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল থাকলেও বেতন স্কেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়েও চিন্তা করছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করার কথা রয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী দুই অর্থবছরে সমন্বয় করা হতে পারে।
নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ভার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হতে পারে।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক গেজেট বা চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাজেট ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।