শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

হাসপাতালের সামনে ফুটপাত দখল, ঝুঁকি নিয়েই চলছেন রোগীরা

হাসপাতালের সামনে ফুটপাত দখল, ঝুঁকি নিয়েই চলছেন রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি হাসপাতাল মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেই হাসপাতালের প্রধান ফটকেই যদি রোগীদের চলাচলের পথ দখল করে বসে ভাসমান দোকান, তবে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার বাস্তব চিত্র মিলেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রোগী, স্বজন, বয়স্ক মানুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা প্রতিদিন ফুটপাতের বদলে ব্যস্ত সড়কে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অব্যবস্থার কার্যকর সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান প্রবেশ পথের ডান পাশে রোগীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য সরকারি অর্থায়নে পার্কিং টাইলস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক হাঁটার পথ। উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে সেই পথের প্রায় পুরো অংশই ভাসমান দোকানিদের দখলে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, বাদাম, আমড়া, বিভিন্ন ফল ও খাবারের দোকান বসে।

ফলে রোগীদের জন্য নির্মিত ফুটপাত কার্যত বাজারে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ফুটপাত বন্ধ থাকায় হাসপাতালে আসা রোগী, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের বাধ্য হয়ে ব্যস্ত প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পাশের ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেতে হলেও রোগীদের সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। হাসপাতালের সামনে দিনের ব্যস্ত সময়ে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়, যা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বিঘœ ঘটায়। আগলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, আমরা নিয়মিত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি।

হাসপাতালের ভেতরে যেমন সমস্যা আছে, বাইরে প্রবেশ করাও এখন দুর্ভোগের। রোগীদের জন্য তৈরি রাস্তা দোকান দখল করে রেখেছে। দ্রুত এসব ভাসমান দোকান সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। শোল্লা ইউনিয়নের হুমায়ুন আহমেদ বলেন, রোগীদের সুবিধার জন্য এত সুন্দর টাইলসের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন সেটি পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে পাশের ক্লিনিক বা ফার্মেসিতে যেতে হলে প্রধান সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে এসব দোকান উচ্ছেদ করা উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি না করায় দোকানিরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুরুতে অস্থায়ীভাবে বসানো হলেও এখন এটি প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস. এম. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরেই দোকান বসছে। আমরা একাধিকবার দোকানিদের নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা তা মানছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে তাদের সরানো সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। খুব শিগগিরই প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের প্রবেশপথ ও ফুটপাত দখল শুধু সৌন্দর্যহানিই নয়, এটি জননিরাপত্তারও বড় হুমকি। সরকারি হাসপাতালের সামনে রোগীদের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ থাকলে জরুরি চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হতে পারে। নিয়মিত অভিযান ও প্রশাসনিক নজরদারি ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত ফুটপাত

দখলমুক্ত করবে। কারণ হাসপাতালের সামনে অবৈধ দখল শুধু একটি শৃঙ্খলার সমস্যা নয় এটি প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি জনস্বার্থের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com