রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের সম্পদ ক্রোক

সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম

একুশের কণ্ঠ প্রতিবেদন:: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাধারণ গ্রাহকদের হাজার-কোটি টাকা আত্মসাতের মাস্টারমাইন্ড ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তথ্য ও ব্যবস্থা নিতে অচিরেই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই ক্রোক আদেশ জারি করেন।

আদালতের আদেশ ও অনুসন্ধান

দুদক সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত বিধিমালা-২০১৯)-এর বিধি ১৮ মোতাবেক সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন।

আদালতের পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম (স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-পানাম (মিরকাদিম), থানা-মুন্সীগঞ্জ সদর, জেলা-মুন্সীগঞ্জ) গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থ দ্বারা বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি ক্রয় করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতিতে জড়িত।

অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, বর্ণিত সম্পত্তি ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তর বা পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার জেলা রেজিস্টারসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্টারদের ক্রোককৃত স্থাবর সম্পদ কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর বা বিনিময় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও চলমান মামলা

নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১ এ একাধিক মামলা দায়ের করেছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহ:

মামলা নম্বর ০১ ও ০২ (তারিখ: ০৮-০৩-২০২২), মামলা নম্বর ১৮ (তারিখ: ০৮-০৩-২০২২), মামলা নম্বর ০৪ (তারিখ: ১২-০৮-২০২২), মামলা নম্বর ০৪ (তারিখ: ০৯-০৫-২০২৩), মামলা নম্বর ০৪ (তারিখ: ০৭-০৪-২০২৩) ও মামলা নম্বর ৩৫ (তারিখ: ৩১-০৭-২০২৫)।

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা-১ এর মামলা নম্বর ৩৫-এ অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের শান্তিতে রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য স্বীকার করেন।

ক্রোককৃত সম্পদের বিবরণ

আদালতের আদেশে দুই ছকে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অর্জিত বেশকিছু মূল্যবান জমি, প্লট ও বাড়ির তালিকা তুলে ধরা হয়েছে:

নজরুল ইসলামের অর্জিত সম্পদ (ছক-১)

রাজধানীর উত্তরা, ভালুকা (ময়মনসিংহ), কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) এবং মুন্সীগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা মোট ২০টি দলিলের সম্পদ। যার দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৩৮,৩৯,১৩,০০০/- (আটত্রিশ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার) টাকা।

উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে: গুলশানস্থ ৮ কাঠা জমি ও বাড়ি- যার দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা; কুয়াকাটায় ৬.১৮ একর জমি— দলিলমূল্য ১০.৫৫ কোটি টাকা; এবং উত্তরায় ২১.২১ কাঠা জমি।

তাসলিমা ইসলামের অর্জিত সম্পদ (ছক-২)

গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা মোট ২২টি দলিলের স্থাবর সম্পদ। যার দাপ্তরিক ক্রয়মূল্য ১৯,২২,৫৪,০০০/- (১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার) টাকা।

উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে: গুলশান ও বাড্ডায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও ভবন।

নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রিকৃত এই বিশাল স্থাবর সম্পত্তির মোট সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকারও বেশি, যার বর্তমান বাজারমূল্য বহুগুণ।

উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিদেশে পাচার করা অন্যান্য সম্পদ ও যুক্তরাষ্ট্রস্থিত বাড়ির বিষয়ে আইনি তথ্য বিনিময়ের জন্য অচিরেই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট ( এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com