বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

চারবারের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার নিতু

চারবারের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার নীতু

আবুল হাশেম ফকির, দোহার থেকে:: শিক্ষকতা কেবল পাঠদান নয়, এটি মানুষ গড়ার শিল্প। আর একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষক শুধু একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করেন না, তিনি বদলে দিতে পারেন একটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, শিক্ষার পরিবেশ এবং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। এমনই এক আলোকিত শিক্ষানেত্রীর নাম নুরুন্নাহার নিতু।

সততা, নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছাশক্তি ও কর্মনিষ্ঠা থাকলে একটি সাধারণ বিদ্যালয়ও হতে পারে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

২০১৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরাসরি নিয়োগ পাওয়ার পর তার প্রথম কর্মস্থল ছিল হাতনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যালয়টির অবকাঠামো, শিক্ষার পরিবেশ ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ছিল সীমিত। কিন্তু তিনি পরিকল্পিত নেতৃত্ব, শিক্ষকদের সমন্বয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়মুখী নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির চিত্র বদলে দেন।

টানা সাত বছর দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষার মানেই নয়, পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, উপস্থিতি, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং উদ্ভাবনী শিক্ষাদানের জন্য নয়াবাড়ী ইউনিয়নের অন্যতম ‘মডেল বিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয়দের মতে, হাতনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার নীতুর দূরদর্শী নেতৃত্ব।

বর্তমানে তিনি ধোয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ এলাকার এই বিদ্যালয়েও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষকে আনন্দময় করে তোলা, আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির ব্যবহার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের বিস্তার এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে তার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।

তার কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার। তিনি চারবার ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে হাতনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ধোয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ সম্মাননা অর্জন করেন। ধারাবাহিক ভাবে চারবার এ স্বীকৃতি পাওয়া একজন প্রধান শিক্ষকের পেশাগত সাফল্য ও নেতৃত্বেরই প্রতিফলন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন প্রধান শিক্ষকের আন্তরিক নেতৃত্ব একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, পরিবেশ ও সুনামকে কতটা বদলে দিতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ নুরুন্নাহার নিতু। তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়কে সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, নুরুন্নাহার নিতুর নেতৃত্বে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও শক্তিশালী হয়েছে। তার কর্মনিষ্ঠা ও মানবিক আচরণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক—সব মহলেই তাকে একজন আদর্শ শিক্ষানেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। নুরুন্নাহার নিতুর মতো শিক্ষকরাই সেই প্রত্যাশার প্রতীক। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে মানসম্মত শিক্ষা, আদর্শ বিদ্যালয় এবং আগামী দিনের দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম।

একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি স্বপ্ন বুনে দেন, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। নুরুন্নাহার নিতুর কর্মময় জীবন সেই আলোকিত সত্যেরই এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com