শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬৮ ডলার বা প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৫ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৭৯ ডলারে লেনদেন হয়।
এর আগে সোমবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনেই ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২০ সালের মে মাসের পর এটি ছিল একদিনে অপরিশোধিত তেলের দামের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে তেলের দামে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার ঝুঁকি কমানো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখনও সম্ভব।
ট্রাম্প বলেন, দুই দিন আগেও আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তারা জানায়, তারা এখনই সেই চুক্তি করতে পারবে না এবং আরও আলোচনা করতে চায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।