মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলমান থাকায়’ উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানের ওপর একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলা তিনি স্থগিত রাখছেন। খবর বিবিসির।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া একটি পোস্টে তিনি বলেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে এমনটি করতে অনুরোধ করেছেন।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাকে জানানো হয়েছে যে- এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না!
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত’ থাকবে।
এদিকে, ইরানের একজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আবারো কৌশলগত ভুল ও ভ্রান্ত হিসাব’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসির জানিয়েছে, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন নিজ দেশে তার জনপ্রিয়তা কমছে। বিভিন্ন জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে যে, এই যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের কাছে দিন দিন অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত ‘নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা’র একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।
জরিপে আরো দেখা গেছে, মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের পারফরম্যান্সকে সমর্থন করছেন। এই জরিপটি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বিবিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলা চালায় তাহলে ইরান কীভাবে তার পাল্টা জবাব দেবে- তা নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ইরানের কাছে প্রচুর পরিমাণে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো দিয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা এবং এমনকি খুব গুরুত্বপূর্ণ সুপেয় পানির শোধনাগারগুলোতে পুনরায় পুরোদমে হামলা চালাতে সক্ষম, বিশেষ করে যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে গরমের তীব্রতা বাড়ছে।
সোমবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আলোচনাকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন, তবে সঙ্গে জুড়ে দেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত এর থেকে কোনো ফলাফল আসে কিনা।
তিনি বলেন, এমন সময়ও এসেছে যখন আমরা ভেবেছিলাম একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি, কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে এবারের পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যদি আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই তা করতে পারি, তাহলে আমি খুব খুশি হব।