সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
লিয়াকত হোসাইন লায়ন,জামালপুর প্রতিনিধি।। জামালপুরে সড়ক সংস্কারের কাজ করার সময় পিচ গলানোর ড্রাম বিস্ফোরণে দুই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা বানার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আগুনে দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন, সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার আরসাব আলীর ছেলে মো: বুলবুল (৩৫) ও মেলান্দহ উপজেলার পৌর শহরের ছনবাড়ী এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক (৫৫)।
জানা গেছে, নান্দিনা বানার এলাকায় একটি রাস্তা সংস্কারের জন্য বুলবুল ও মোজাম্মেলসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক পিচ গলানোর কাজ করছিলো। সোমবার দুপুরে অন্য শ্রকিররা দুপুরের খাবার খেতে যায়। এ সময় বুলবুল ও মোজাম্মেল পিচ গলানোর কড়াই তে আগুন দিয়ে পিচ গলাতে থাকে। সেই সময় হঠাৎ পিস গলানোর কড়াইটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে তাদের শরীরে আগুন লেগে যায় এবং তারা আগুন লাগা অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি করতে থাকে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর অন্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের এই অবস্থায় দেখে বালি দিয়ে তাদের শরীরের আগুন নিভায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকাল ৪ টার দিকে জামালপুর জেনারেল হসপিটালে এনে ভর্তি করে।
মো: শাহীন নামের এক শ্রমিক বলে, আমি এসে দেখি তাদের শরীরে আগুন লেগেছে এবং তারা মাটিতে গড়াগড়ি পারছে। পরে আমি এবং অন্য শ্রমিকরা তাদের কলা পাতার ওপরে শুরিয়ে রাখি এবং অ্যাম্বুলেন্সকে ফোন করি কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স যায় না। সিএনজিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করি কিন্তু সিএনজিও তাদের নিয়ে আসে না। পরে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করা হলে তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
রবিন নামের আরেক শ্রমিক বলেন, আমাদের দুপুরে খাবারের সময় দিছে, আমরা খেতে গেছি। খাওয়া শেষ করার পর অনেক জুড়ে শব্দ ও অনেক ধোয়া উঠতে দেখি। পরে গিয়ে দেখি তাদের শরীরে আগুন। আমরা কয়েকজন মিলে আগুন নিভায়। এবং ফায়ার সার্ভিসের ফোন দেই পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে আসে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে আসি।
এ বিষয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো: শামীম ইফতেখার বলেন, আগুনে পোড়া যে দুজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বুলবুলের শরীর প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মোজাম্মেলের শরীর প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের দুজনের অবস্থায় সংকটাপূর্ণ। তাদের হাত সম্পূর্ণ পড়ে যাওয়ায় পায়ে কেনলা করে স্যালাইন পুশ করা হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ হসপিটালে প্রেরণ করা হয়েছে।