মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
নীলফামারী প্রতিনিধি:: দীর্ঘ চার বছরের অধিক সময় ধরে মর্গে পড়ে থাকা ধর্মান্তরিত (নওমুসলিম) নীলফামারীর সেই হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানী) মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
৪ মে শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের নিয়োগকৃত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে লাইজুর শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে একই উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী কাজীপাড়া জামে মসজিদ চত্বরে দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতায় চার বছরের অধিক সময় ধরে মর্গে পড়ে থাকে লাইজুর (নিপা রানী) মরদেহ। গত ১২ এপ্রিল লাইজুকে (নিপা রানী) ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার খামার বামুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর একই উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে বিয়ে করেন নীপা। এ জন্য তিনি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং হোসনে আরা বেগম লাইজু নাম ধারণ করেন।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রেক্ষিতে নীপা রানির বাবা অক্ষয় কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের সব কাগজপত্রসহ আদালতে জমা দেন লাইজু। পরে আদালত অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেন।
এরপর ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি হুমায়ূন ফরিদ বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। একই বছর ১০ মার্চ কীটনাশক পানে মৃত্যু হয় লাইজুর। লাইজুর মৃত্যুর পর শ্বশুর জহুরুল ইসলাম ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক তাকে দাফন ও বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মেয়ের সৎকারের জন্য নীলফামারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে লাইজুর মরদেহ তার শ্বশুরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
এদিকে এই আদেশের বিরুদ্ধে লাইজুর বাবা উচ্চ আদালতে আপিল করেন।বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরেই থেকে যায়।