সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
কিয়ার স্টারমার আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।
সোমবার (২২ জুন) লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতার পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও তাকে সরে দাঁড়াতে হবে। খবর সিবিএস নিউজের।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দলের ভেতর ও বাইরে থেকে পদত্যাগের জন্য তীব্র চাপের মুখে ছিলেন স্টারমার। তবে সম্প্রতি লেবার পার্টির অভ্যন্তরে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই মূলত স্টারমারের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
এর আগে স্টারমার নিজের পদে টিকে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে লেবার পার্টির সিংহভাগ আইনপ্রণেতা ও সহকর্মী যখন একমত হন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে, তখন পদ ধরে রাখা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে, গত সপ্তাহে অ্যান্ডি বার্নহাম ম্যানচেস্টারের মেয়রের পদ ছেড়ে দিয়ে একটি স্থানীয় উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করার পর স্টারমারের বিদায়ঘণ্টা আরো দ্রুত বেজে ওঠে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ রাজনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হতে হলে হাউস অব কমন্সের (সংসদ) বর্তমান সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক, যা বার্নহাম আগেই সম্পন্ন করে রাখলেন।
কিয়ার স্টারমারের এই পদত্যাগের মাধ্যমে লেবার পার্টির এক টালমাটাল শাসনামলের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অথচ দুই বছরেরও কম সময় আগে এক ঐতিহাসিক ও বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে স্টারমারের নেতৃত্বেই লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের ভরাডুবি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো পরিচালনায় স্টারমারের ব্যর্থতায় সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া বিদায়ী বিবৃতিতে স্টারমার তার সরকারের বেশ কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
এরপর দলের মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার দল এখন জানতে চাইছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কি না। আমি সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি… এবং অত্যন্ত সদ্বিবেচনার সঙ্গে আমি তা মেনে নিচ্ছি। এ পর্যন্ত আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, তার সবকিছুই ছিল দেশকে সবার আগে রাখার স্বার্থে।
তিনি আরো যোগ করেন, আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করছি।
বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নিজের সন্তানদের কথা উল্লেখ করার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সন্তানরাই তার ‘গর্ব এবং আনন্দের উৎস’ উল্লেখ করার সময় তার গলা ধরে আসে এবং তাকে বেশ আবেগাপ্লুত দেখায়।
স্টারমারের এই আকস্মিক ঘোষণার পর এখন সবার নজর লেবার পার্টির পরবর্তী নেতৃত্বের দিকে, যেখানে অ্যান্ডি বার্নহামকেই পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে।