মঙ্গলবার, ০২ Jun ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ জননেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (০১ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
শেষ সময় ও পারিবারিক তথ্য
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজা ও দাফন
তোফায়েল আহমেদের জামাতা তৌহিদুজ্জামান তুহিন সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“মঙ্গলবার (০২ জুন ২০২৬) বাদ জোহর ভোলা জিলা স্কুল মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ভোলায় তাঁর স্ত্রীর কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।”
এক নজরে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:
জন্ম: ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে।
ছাত্র রাজনীতি: ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসু-র ভিপি ছিলেন।
গণ-অভ্যুত্থান: ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির নেতৃত্বদানকারী।
সংসদীয় ক্যারিয়ার: ১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব: তিনি বিভিন্ন মেয়াদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় অবস্থান: তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তখন চিকিৎসকরা তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ লড়াই শেষে সোমবার (০১ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরপারে পাড়ি জমালেন এই প্রবীণ নেতা।