মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
মোঃ মজিবুর রহমান, সালথা (ফরিদপুর)॥
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নবকাম পল্লী কলেজকে সরকারি করার উদ্যোগে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ খবরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এক আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে নবকাম পল্লী কলেজটি সরকারি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছিল। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতেই সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানোটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
১৯৯৪ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মিঞা লুৎফার রহমান গ্রামীণ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘নবকাম’ শব্দটি তৈরি হয়েছে চারটি প্রতিবেশী উপজেলার নামের আদ্যক্ষর নিয়ে- ‘ন’ (নগরকান্দা), ‘ব’ (বোয়ালমারী), ‘কা’ (কাশিয়ানী) এবং ‘ম’ (মুকসুদপুর)। চার উপজেলার মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি শুরু থেকেই একটি অন্যতম আঞ্চলিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
শিক্ষার মান, চমৎকার ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কলেজটি সালথা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১০ বার এবং ২০২৩ সালে ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করে। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফজলুল হক খন্দকার। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস), বাউবি-র এইচএসসি, বিএ ও বিএসএস, বিএম (ভোকেশনাল), ৮টি বিষয়ে অনার্স এবং ব্যবস্থাপনা ও সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। প্রায় ১,৩০০ শিক্ষার্থী, ৬১ জন শিক্ষক এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে এটি অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। কলেজটি সরকারি হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে, অবকাঠামোগত বিকাশ ঘটবে এবং গ্রামীণ জনপদের হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিপুল সুযোগ-সুবিধা পাবে।”
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত দাবিটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার চূড়ান্ত সংবাদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সালথাবাসী।