রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচন পাঁচ ধাপে করতে চায় বিএনপি

একুশের কণ্ঠ প্রতিবেদন:: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। গতকাল শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কে হবেন, সেই নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হয়ে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সব ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হতে পারে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল রাতে বৈঠকে বসল স্থায়ী কমিটি। গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রাত ৮টার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি কে হবেন এ ব্যাপারে কোনো প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির বৈঠকে মূলত চারটি বিষয় আলোচনায় আসে- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বৈঠকে একাধিক সদস্য মত দেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও চাইলে এর আগেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে চলতি সংসদ অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আরও আগে ডাকার পরামর্শ দেন কেউ কেউ। তাদের মতে, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরপরই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই অধিবেশন আহ্বান করা যেতে পারে। অধিকাংশ সদস্যও এ সময়সূচির পক্ষে মত দেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এ ছাড়া বিরোধী দলের ভূমিকা, চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না রাখার নীতিগত অবস্থান নিয়েছে দলটি। ফলে যে কেউ স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারবেন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রার্থী সমর্থন ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে একটি মানদণ্ড নির্ধারণের কথাও উঠে আসে বৈঠকে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে থানা ও জেলা বিএনপিকে। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা বিষয়টি সমন্বয় করবেন।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সাংগঠনিক অবস্থানসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করলে দলের পক্ষ থেকে কে নমিনেশন পাবে সে বিষয়ে আমরা দলের চেয়ারম্যানের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় ন্যস্ত করেছি।

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি, যাচাই-বাছাই হবে। বাচাইয়ের পর একক প্রার্থী হলে সে ক্ষেত্রে আর নির্বাচন করতে হয় না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার নিয়ম আছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস (ভার্চুয়ালি), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান (ভার্চুয়ালি), নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com