শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও বৈরুত প্রতিনিধি ॥
ঢাকা: লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ক্রমেই এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এবার সেই আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। নাভানিয়া এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একই পরিবারের চার বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তীব্র বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিনের হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যেই রয়েছেন ওই চার বাংলাদেশি নাগরিক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল নতুন করে এলাকা খালি করার নির্দেশ জারি করেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন লেবানিজ সদস্য রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে সাইদা ও টাইর শহরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ আদলুন মহাসড়ক দিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন তারা এবং ঘটনাস্থরেই প্রাণ হারান।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকা, সড়ক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাভানিয়া এলাকায় হামলায় তাদের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবানন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় আরও কয়েকজন লেবানিজ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী টাইর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। বাসিন্দাদের দ্রুত জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছে, যা লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইতোমধ্যেই টাইর শহরে রাতভর চালানো বিমান হামলায় একটি ভবন ও একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা এখনো তৎপরতা চালাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সতর্কতা:
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি- তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ জনবসতি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি সতর্ক করে বলেছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধারাবাহিক হামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে, যা চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।