বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
রাজবাড়ী প্রতিনিধি:: রাজবাড়ীর পাংশায় চোর সন্দেহে মো. জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট এলাকার করিম মণ্ডলের মিলসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের মো. শুরাই বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবামাঝাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে গত ২২ জুন মাজাইল গ্রামের জামিন বিশ্বাসকে দড়ি বাংলাট এলাকায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, ওই মামলার আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জজ আলীকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁর স্বামী বাড়ির পাশের নদীতে মাছ ধরতে যান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে কসবামাঝাইল ইউনিয়নের আরিফ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে সকালে তিনি জানতে পারেন, চোর সন্দেহে তাঁর স্বামীকে মারধর করা হয়েছে এবং এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
নিহতের বাবা শুরাই বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তাঁর ভাই জামিন বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। তাঁর দাবি, জামিনে বের হয়ে আসার পর এবার তাঁর ছেলে জজ আলীকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. মাহামুল হাসান অন্তর দাবি করেন, জজ আলী ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাতে জজ আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পানির মোটর চুরির অপবাদ দেওয়া হয় এবং ইট ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পানির মোটর চুরির সন্দেহে স্থানীয়দের মারধরে ওই যুবক গুরুতর আহত হন।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। এজাহার পাওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি চুরি নাকি পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।