সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
রাজবাড়ী প্রতিনিধি:: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে কয়েকটি পরিবার। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতের রায়ের পর উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। ইতিমধ্যে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি পরিবারের প্রায় ৪০ জন সদস্য, নারী-শিশুসহ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতের রায় নিয়ে এসে বাদী আব্দুস সালাম মোল্লা ও তাঁর লোকজন তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের বসবাস ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী মাহাবুব প্রধান বলেন, ‘আমরা এখানে প্রায় ৭০ বছর ধরে বসবাস করছি। আব্দুস সালাম মোল্লা আমাদের জমি নিজের দাবি করে একজন হিন্দু নারীকে বোন পরিচয় দিয়ে নিজেকে ওয়ারিশ দেখিয়েছেন। এরপর সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে গোপনে আদালতের রায় নিয়ে এসে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। আমরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।’
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘরে দুটি পরিবার থাকছি। ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ঘরটি ভাঙেননি। আমরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’
৬০ বছরের বেশি বয়সী হালিমা বেগম নিজের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস ধরে আমরা স্বামী-স্ত্রী বাথরুমের ভেতরে থাকছি। দুর্গন্ধে রাতে ঘুমাতে পারি না। এভাবে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে।’
বর্তমানে পরিবারগুলোর কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বাথরুমে, কেউ রান্নাঘরে, আবার কেউ ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রাতের অন্ধকার, কোনো কিছু থেকেই তাদের রক্ষা পাওয়ার মতো নিরাপদ আশ্রয় নেই। সামনে শীত মৌসুম। এরই মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জমির মালিকানা ও আদালতের রায়সংক্রান্ত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার এবং নিরাপদে বসবাসের অধিকার ফিরে পেতে চান।
দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে যে ভিটেমাটিতে তাদের বসবাস, আজ সেই ভিটেমাটিতেই তারা পরবাসীর মতো। অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে পাঁচটি পরিবারের প্রায় ৪০ জন মানুষের। তাদের এখন একটাই প্রত্যাশা, কেউ তাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।