সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
ছবি: আনাদোলু এজেন্সি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করেছে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য চলমান অপারেশন ‘ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭২টি বিমান ও অন্যান্য হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় অন্তত ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও ফিল্ড কমান্ডার হতাহত হয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আল-নুজাইলি বলেন, হুথিদের সামরিক শক্তি দুর্বল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রণাঙ্গনে তাদের অবস্থান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ চৌকি, কামানের ঘাঁটি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম এবং রসদ সরবরাহকেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট এসব হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অভিযানে অন্তত ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও ফিল্ড কমান্ডার হতাহত হওয়ার পাশাপাশি হুথিদের ১৬৯টি সামরিক যান, সরঞ্জাম ও ভারী অস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কতজন মারা গেছেন আর কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
তিনি বলেন, উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর স্থল অভিযান ও হারানো অবস্থানগুলো পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করতেই এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া মারিব, আল-বাইদা, ও তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাইজে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্সের যোদ্ধারা যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান আল-নুজাইলি। তিনি দাবি করেন, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোগুলো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এর আগে সেনাবাহিনী জানায়, তারা দুটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং তাইজের দক্ষিণে আল-মিস্ত্রাখ জেলায় হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম তাইজে হুথিদের একটি ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত এবং অপর এক নারী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, আল-জাওফ প্রদেশে সরকারি বাহিনী কৌশলগত হওয়াইশিয়ান পর্বতমালা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের প্রধান রক্ষণাত্মক রেখা হিসেবে এই পর্বতমালাকে বিবেচনা করা হতো।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী গত ৫ অক্টোবর থেকে হুথিদের হাত থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে এবং রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার করতে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা সানা ও অন্যান্য বেশ কিছু প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে যে তুলনামূলক শান্ত অবস্থা বজায় ছিল, চলতি বছর নতুন এই উত্তেজনার ফলে তা ভেস্তে গেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি