মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ক্রীড়া ডেস্ক ॥
ঢাকা: আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুললো স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের এই জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুললো স্প্যানিশরা। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল তারা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফেভারিট হিসেবে খেলা স্পেন ফাইনালেও এতটাই গোছানো ও নিখুঁত ফুটবল উপহার দিয়েছে যে, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে পুরোটা সময় মাঠের কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাত ১টায় শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় এই দুই পরাশক্তি।
প্রথমার্ধে স্পেনের আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। লুইস দে লা ফুয়েন্তের রণকৌশলে শুরু থেকেই প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল করার একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। এরপর ১২তম মিনিটে স্পেন ম্যাচের প্রথম কর্নার পেলেও ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় সে যাত্রা বিপদমুক্ত থাকে আর্জেন্টিনা।
খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণে স্প্যানিশরা পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয়। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে আলবিসেলেস্তেরা মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে। পুরো প্রথমার্ধে লিওনেল মেসিদের মূলত নিজেদের রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
মার্তিনেজের প্রতিরোধ ও এনজোর লাল কার্ড
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল আদায়ের জন্য একের পর এক আক্রমণ সচল রাখে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু দুর্দান্ত আক্রমণ প্রতিহত করেন। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। রক্ষণে ব্যস্ত থাকা আর্জেন্টিনা তো প্রতিপক্ষের গোল অভিমুখে তেমন কোনো শটই নিতে পারেনি।
তবে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) তৃতীয় মিনিটে ঘটে বড় বিপর্যয়। স্পেনের পাউ কুবারসিকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন ফুটবলার কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের সেই ‘স্বর্ণালী’ গোল
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেররান তোরেস। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা একটি বল নিখুঁত দক্ষতায় মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। বলটি ফাঁকায় পেয়ে যান তোরেস এবং জোরালো এক আগুনে শটে তা আর্জেন্টিনার জালে জড়ান।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা গোল শোধের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণের বিরুদ্ধে পেরে ওঠেনি। বাকি সময়ে স্পেনও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।