রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
Exif_JPEG_420 মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৯৪ জন রোগী। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শয্যা সংকট এতটাই প্রকট যে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে যেমন রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছেন, তেমনি সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যা রোগীতে পূর্ণ। অতিরিক্ত রোগীদের জন্য ওয়ার্ডের বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও হাঁটার মতো জায়গাও নেই। রোগীর স্বজনদের ভিড়ে পুরো হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক চাপা অস্বস্তিকর পরিবেশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঋতু পরিবর্তন, তীব্র গরম এবং বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি মারামারিতে আহত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, পুরুষ ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪ জন এবং অন্যান্য রোগে ২৬ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৬ জন, নিউমোনিয়ায় ৩ জন, গাইনি বিভাগে ১ জন এবং অন্যান্য রোগে ৪৪ জনসহ মোট ৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান নেওয়া এক রোগীর স্বজন ডিগেন চন্দ্র রায় বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও একটি বেড পাইনি। বাধ্য হয়ে মেঝেতেই রোগীকে রেখে চিকিৎসা করাচ্ছি। ডাক্তার ও নার্সরা আন্তরিক, কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে সবাইকে সময়মতো সেবা দেওয়া তাদের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বে থাকা এক নার্স বলেন, “আমাদের জনবল ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এখন প্রায় দ্বিগুণ রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে। ওষুধ দেওয়া, স্যালাইন দেওয়া, রোগী পর্যবেক্ষণ সবকিছু সামলাতে গিয়ে আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই শয্যা না থাকলেও ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মচারীদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহেও চাপ বাড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, রাণীশংকৈল উপজেলার জনসংখ্যা ও চিকিৎসা সেবার চাহিদার তুলনায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল এখন আর যথেষ্ট নয়। দ্রুত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও সংকটে পড়বে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।