বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধ চালিয়ে কোনো দেশকে দমন বা আত্মসমর্পণ করানো যায় না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না। তবে আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি এবং দেশের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়, তাহলে শত্রু তার লক্ষ্য অর্জন করবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলোর মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে আমাদের।
এদিকে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে ‘মাদার অফ অল বোম্বস’ (সব বোমার মা) ব্যবহারের সম্ভাবনা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন, তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে এই বিষয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলে তা পরিস্থিতির এক চরম অবনতি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঘটাবে। তবে অভ্যন্তরীণ সামরিক পরিকল্পনা ও আলোচনা বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন বা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে এই শক্তিশালী বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে খোদ সামরিক বাহিনীর ভেতরেই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
আমেরিকান জনগণের কাছে গভীরভাবে অপ্রিয় হয়ে ওঠা এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইতি টানতে ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র মানসিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পরও দুই দেশ কোনো সমঝোতামূলক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে, এমন কোনো স্পষ্ট আলামত মিলছে না। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা অসন্তোষ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে ইরানের বিভিন্ন দূরবর্তী ও অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নতুন নতুন বিকল্প পথ বাতলে দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু হোয়াইট হাউসের কাছে এমন কোনো সুস্পষ্ট বা সমন্বিত কৌশল আছে কি না, যা এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে; তা নিয়ে কিছু সামরিক কর্মকর্তা আড়ালে সংশয় প্রকাশ করে চলেছেন। তারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যুদ্ধ থামানোর চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের হাতেই নিবন্ধিত। গত কয়েক সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক বৈঠক করেছেন।
সূত্র: প্রেসটিভি, আল-জাজিরা