বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে কেন্দ্র করে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার তেলের দামে এই পতন দেখা যায়। খবর রয়টার্স’র।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরাইল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ঝুঁকি থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেভা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে। তবে বাজার এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। তার ভাষ্য, অঞ্চলটিতে নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের তেলের দামই আবার দ্রুত বাড়তে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হওয়ার আশা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে একই সময়ে তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীন এখনো ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় এই বৈঠক আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেসিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, সরবরাহ ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এপ্রিল মাসে দেশটিতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কিছু সময় অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা জোরদার হয়েছে। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকস বলছে, উন্নত অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো সরাসরি ভোগ ব্যয়ে বড় ধস না নামালেও ভোক্তাদের আস্থা ও নিয়োগ প্রবণতার অবনতি ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল করে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে। পাশাপাশি ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুতও হ্রাস পেয়েছে বলে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com