বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই, ঢাকা ॥
ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে ‘মসজিদে রাবেয়া’, যা কেবল একটি ইবাদতগাহ নয়, বরং এটি ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সেবার এক অনন্য সমন্বয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক আলাউদ্দিন আল আজাদ তার মায়ের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই বিশাল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
স্থাপত্যের বিস্ময়: ২৩৩ গম্বুজ ও ২৫০ ফুট মিনার
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নয়নাভিরাম এই মসজিদে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৩৩টি গম্বুজ থাকছে, যার কেন্দ্রে থাকবে একটি বিশালাকার প্রধান গম্বুজ। মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে এর ২৫০ ফুট উচ্চতার সুউচ্চ মিনার, যা অনেক দূর থেকেই নজর কাড়বে। আধুনিক ও ইসলামিক স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
সেবার কেন্দ্রবিন্দু: হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম
মসজিদে রাবেয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ও সোশ্যাল কমপ্লেক্স। এর উল্লেখযোগ্য মানবিক উদ্যোগগুলো হলো:
চক্ষু হাসপাতাল: যেখানে এলাকার অসচ্ছল মানুষ বিনামূল্যে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানা: প্রবীণ ও অবহেলিত মানুষের জন্য আধুনিক আবাসন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য থাকছে লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা।
শিক্ষা ও সংস্কৃতি: কমপ্লেক্সের ভেতরেই গড়ে উঠছে একটি আধুনিক মাদ্রাসা এবং সমৃদ্ধ পাঠাগার।
অন্যান্য সুবিধা: মরদেহ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার এবং একটি সুপরিকল্পিত কবরস্থান।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই প্রকল্প ধামরাইয়ের পরিচিতি বদলে দেবে। এটি একদিকে যেমন ধর্মীয় পর্যটনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। নির্মাণাধীন এই স্থাপনা দেখতে এখনই প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করছেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও বহুমুখী সেবাধর্মী ধর্মীয় কমপ্লেক্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
নিউজ ডেস্ক, জাতীয় সংবাদ…