সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:: দেশের সর্বউত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দর থেকে ৪২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সরকারের বেধে দেওয়া নির্ধারিত ২৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ আদায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ২৫৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। পাথর আমদানি নির্ভর এ বন্দর দিয়ে বর্তমানে পাথর ছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি-রপ্তানিও বাড়ছে। নেপালে পাট, সুতলি, ঝাড়ু, চিটাগুড়, পিয়াজ, ঝুট কাপড়, জুস ও সয়াবিন মিলসহ বিভিন্ন পণ্য এবং ভারতে প্রাণ কোম্পানির কয়েক ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে চা কারখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানিও বেড়েছে।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৪ কোটি ৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ১১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নির্ধারন করা হলেও ১৬৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এভাবেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ৪২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেল আমদানিতেও রাজস্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ভারতে তেল সংকটের সময় দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ইন্দো-বাংলা পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাংলাবান্ধা বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। তবে এ খাতে কী পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে বা কত রাজস্ব আদায় হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্য জানায়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের পোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এবং এ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রাক এসেছে । এতে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বেড়েছে। তবে রাজস্ব আদায়ে দ্বিগুন হলেও বন্দরের সেবার মান ও অবকাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছু অভিযোগ রয়েছে। পণ্য খালাসে ধীরগতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দূর করে পন্য আনলোডে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম শাহীন বলেন, আগের তুলনায় বাংলাবান্ধা বন্দর সুন্দর পরিবেশ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে। আগে বন্দরটি আমদানি নির্ভর থাকলেও বর্তমানে রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সি এন্ড এফ এসোসিয়েশন এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুসা বলেন দেশের একমাত্র চারদেশীয় সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এই বন্দরে ব্যবসাবানিজ্য চলছে। আগের থেকে বহুগুণ রাজস্ব সহ সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। সি এন্ড এফ এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা আগামী তে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বানিজ্যিক কার্যক্রম পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, বন্দরের অবকাঠামোগত ও সেবার মান আরও উন্নত করা গেলে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখ্যযোগ্য হারে বাড়বে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক গুন বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজস্ব আদায়ের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে। সেই সাথে উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও যোগ হবে নতুন মাত্রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com