রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

নুসরাত হত্যা: কাউন্সিলর মাকসুদ ৫ দিনের রিমান্ডে

ফেনী প্রতিনিধি::

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার নম্বর আসামি কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে (৪৫) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফউদ্দিন আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।

পিবিআই’র উপপরিদর্শক ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে সোমবার সকালে ফেনী জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

কাউন্সিলর মাকসুদ সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। সে সোনাগাজী পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। একই সঙ্গে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য। নুসরাত হত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে মাকসুদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফেনী পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় গত শুক্রবার সকালে পিবিআই’র একটি দল ঢাকার ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মাকসুদকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করে। এমন অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ওই দিনই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে অধ্যক্ষের পক্ষ নেয় কাউন্সিলর মাকসুদ। সে নুসরাত ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। এরপর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষের পক্ষে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে মাকসুদ- এমন অভিযোগ করে নুসরাতের পরিবার।

এমনকি মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিচার চেয়ে ওই মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য ও বর্তমান কাউন্সিলর শেখ মামুনের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা ও মামুনকে মারধর করে মাকসুদ।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) এ মামলার দুই সন্দেহভাজন আসামি নূরউদ্দিন এবং শাহদাত হোসেন শামীম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে। ভিকটিমের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু এ তথ্য জানিয়েছেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে নূরউদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম অধ্যক্ষের মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। এজন্য সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম তাদেরকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। এছাড়া, মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য তাদেরকে (নূরউদ্দিন ও শামীম) পাঁচ হাজার টাকা দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com