সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মৌলিক অধিকার পরিপন্থি: সুজন

আইন-আদালত ডেস্ক রিপোর্ট:: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল করে আইনটির পুনঃসংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সুজন মনে করে, এই আইনটির অনেকগুলো ধারা (৮, ২৮, ২৯, ৩১) নিবর্তনমূলক, যে ধারাগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার হতে পারে, বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করতে পারে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও আমরা মনে করি। বিবৃবিতে বলা হয়, এর আগে তথ্য প্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ছয় বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানান পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি।
বরং বাতিল হওয়াতথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দচয়ন করে, ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে সুজন নেতৃবৃন্দ বলেন, যে কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মত-বিমত থাকতেই পারে। তাছাড়া, আমাদের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা তথা বাক্ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমরা মনে করি, এই আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সঙ্কুচিত করবে, নাগরিকদের বাক্-স্বাধীনতা হরণ করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করবে।
বিবৃতিতে ‘সুজন’-এর পক্ষ থেকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটি পুনঃসংশোধনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে উপরোক্ত বিলে স্বাক্ষর না করে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com