বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
জামালপুর প্রতিনিধি।। জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাত্র ৫শ টাকা বাজিতে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিড়ে কাঁচা মাংস খাওয়ার অপরাধে সাদুল্লাহ (৫০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কোয়ালিকান্দি মধ্যপাড়া নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায়।
আটক সাদুল্লাহ ওই এলাকার হাফিজলের ছেলে। সে পেশায় ইজিবাইক চালক।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় কোয়ালীকান্দি বাজারে মাত্র ৫শ টাকা বাজিতে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিড়ে কাঁচা মাংস খায় অভিযুক্ত সাদুল্লাহ। বুধবার সকালে জীবন্ত শালিক পাখি ছিড়ে কাঁচা মাংস খাওয়ার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত সাদুল্লাহকে তার নিজ বাড়ী থেকে আটক পুলিশ।
স্থানীয় মকবুল হোসেন জানান, সকালে ফেসবুকে একটি ভিডিও জীবন্ত পাখি খাওয়ার ভিডিও দেখি। সেখানে ছাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি জীবন্ত পাখিটি হাতে নিয়ে এর পা ও ডানা মুচড়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় পাখিটি নড়াচড়া করছিল। পরে সে পাখিটি ছিড়ে ছিড়ে খেয়ে ফেলেন। ঘটনাটি দেখতে সেখানে অনেক লোকজন ভিড় করেন। তাদের কেউ কেউ সাদুল্লার মাংস খাওয়া দেখে উল্লাস করেন। মানুষের মধ্যে মানবিকতার ব্যপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
জীবন্ত একটি পাখির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিকভাবে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নিছক বাজি কিংবা বিনোদনের নামে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলার পরিবেশ ও বন্য প্রাণি সংরক্ষণকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিহঙ্গের’ সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিন বলেন, যেখানে অল্প টাকায় পশুর মাংস পাওয়া যায় সেখানে নিরীহ বন্য প্রাণি কেন খেতে হবে তাও আবার জীবন্ত। এসব মানুষের মধ্যে রুচি বোধের অভাব তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে নীতি, নৌতিকতা, মানবিকতা বলতে কিছু নেই। বন্য প্রাণি ধরা ও মারা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, এসব সরকারের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণি সংরক্ষনের জন্য ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো দরকার। অভিযুক্তের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী জানান তিনি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, সাদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিযুক্ত সাদুল্লাহর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।