বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে মানুষের ‌‘ক্ষুদে মস্তিষ্ক’ 

অনলাইন ডেস্ক:: আপনার শরীরের সামান্য এক টুকরো চামড়া থেকে কি গড়ে তোলা সম্ভব মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু? আপাতদৃষ্টিতে একে কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারে ঠিক এই কাজটিই করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক কোষকে কৃত্রিমভাবে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঁচা কোষে রূপান্তরিত করে সেগুলোকে নিউরনে পরিণত করা হচ্ছে। এরপর উপযুক্ত পরিবেশে এই নিউরনগুলো নিজের থেকেই ত্রিমাত্রিক রূপ ধারণ করে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্রেন অর্গানয়েড’ (ল্যাব-সংরক্ষিত ক্ষুদে মস্তিষ্ক) নামে পরিচিত।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই মিনি ব্রেনগুলো একেবারেই পূর্ণাঙ্গ কোনো মানুষের মস্তিষ্ক নয়; কারণ এতে আসল মস্তিষ্কের মতো জটিল গঠন বা সম্পূর্ণ রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা অনুপস্থিত। তবে মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ কীভাবে ঘটে এবং পার্কিনসনের মতো জটিল স্নায়ুরোগ কীভাবে তৈরি হয়, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে এগুলো এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এমনকি পশুর শরীরে কার্যকর ওষুধ মানবদেহে ব্যর্থ হওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, অর্গানয়েডের মাধ্যমে তা দূর করে সরাসরি মানুষের টিস্যুতে ওষুধ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এখন মানব-ভিত্তিক গবেষণায় শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

তবে মিনি ব্রেনের গল্প কেবল ওষুধ বা চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর সীমানা এখন পৌঁছে গেছে গণনাবিদ্যা বা বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিংয়ের দোরগোড়ায়। গবেষণাগারের এই খুদে মস্তিষ্কগুলো কেবল নিষ্ক্রিয় কোষের সমষ্টি নয়, এগুলো নিজেদের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে এবং নির্দিষ্ট উদ্দীপনায় সাড়াও দেয়। অস্ট্রেলিয়ার কর্টিকাল ল্যাবস-এর বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে তৈরি নিউরন নেটওয়ার্ককে ইলেকট্রোডের মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে আশাতীত সাফল্য পান। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক ফিডব্যাক ব্যবহার করে এই নিউরনগুলোকে ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘পং’ কিংবা বিখ্যাত অ্যাকশন গেম ‘ডুম’ খেলা শেখানো সম্ভব হয়েছে। এই আবিষ্কার জন্ম দিয়েছে এক নতুন গবেষণাশাখার, যার নাম ‘অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স’।

যেখানে পুরো বিশ্ব সিলিকন চিপ আর কৃত্রিম মেধা তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে, সেখানে জীববিজ্ঞানীরা কাঁচের পাত্রেই বুদ্ধিমত্তার মৌলিক উপাদান তৈরি করে ফেলছেন। কিন্তু এই দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নিচ্ছে অত্যন্ত গভীর কিছু দার্শনিক ও নৈতিক প্রশ্ন। কৃত্রিম পরিবেশে বৃদ্ধি পাওয়া এই টিস্যুগুলোর জটিলতা যদি আরও বাড়ে, তবে কি তাদের মধ্যে সচেতনতা বা কোনো অনুভূতি তৈরি হতে পারে? যাদের সংগৃহীত কোষ থেকে এই অর্গানয়েডগুলো তৈরি হচ্ছে, ভবিষ্যতের জৈব-কম্পিউটারে তাদের কি কোনো স্বত্ব থাকবে?

সূত্র: এনডিটিভি

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com