শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

খালিয়াজুরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২৮

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ২ নম্বর চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামে পূর্ববিরোধ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গুরুতর আহত শাহ আলমগীর (২৩) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে পূর্ববিরোধ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের সময় রানীচাপুর গ্রামের নূরুল হক মিয়ার ছেলে শাহ আলমগীরের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের স্বজনেরা জানিয়েছেন।

শাহ আলমগীরের প্রতিবেশী ও ভাই-সম্পর্কের আত্মীয় সানোয়ার ফকির বলেন, শাহ আলমগীর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। এক পক্ষের সঙ্গে চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানের অনুসারী এবং অপর পক্ষের সঙ্গে চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার দাবি রয়েছে। তবে সংঘর্ষের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর জানামতে, তাঁর বাবা জালাল মিয়া উপজেলা কৃষকদলের সদস্য।

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কোন পদে রয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তাঁর স্বজনদের দাবি, তিনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এ তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, সংঘর্ষের পর এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ঘটনার খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শাহ আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য আসছে। প্রকৃত ঘটনা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে দুটি মামলা এফআইআরভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষে একজন নিহতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com