শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ২৬টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে।
শুক্রবার হুথিরা দাবি করে, গত এক সপ্তাহেই হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০টিতে। এসব হামলায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিভিন্ন অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।
সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার শুক্রবার জানায়, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনী ৩০ জন হুথি বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে এবং ৬০ জনের বেশি আহত করেছে। চলতি সপ্তাহে যেসব ফ্রন্টে লড়াই বেড়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকারে বাড়ার পরই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
শুক্রবার সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে ইরান সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ, যার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। দুই পক্ষের প্রতিবেদনেই এই তথ্য উঠে এসেছে।
সৌদি আরব জানায়, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে হুথি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানায়, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে।
এই উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনকেও টেনে এনেছে, যদিও তারা এতে জড়াতে অনেকটাই অনিচ্ছুক। হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের ঘটনা বাব-এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করায় গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বাব-এল-মান্দেব বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
জানা গেছে, হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাবে না।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো পিছিয়ে আছে। কারণ ইরানের সঙ্গে ইতিমধ্যে ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় নতুন কোনো ফ্রন্ট খুলতে তারা সতর্ক।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার জানান, লোহিত সাগরে জোটের নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপাইডিস তাদের সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে, কারণ অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কালাস তার এক্স পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।