রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
প্রতিটি উপজেলায় হবে বয়স্ক পুনর্বাসন কমপ্লেক্স: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮ নড়াইলে স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী ও বেয়াই গ্রেফতার নড়াইলে শেষ হলো সুলতান উৎসব, ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান লালমনিরহাটে রত্নাই সড়ক সেতুর উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী দুলু, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

কুষ্টিয়ায় হত্যায় মামলায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:: কুষ্টিয়ায় ইজিবাইক চালক মাসুদ রানা হত্যাকাণ্ডে এক আসামির ফাঁসির আদেশ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা জজ মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন উদিবাড়ী কলোনীপাড়া এলাকার মো. রবিউল ইসলামের ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন উদিবাড়ী কলোনীপাড়া এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে মো. শামীম, একই থানার ঢালিপাড়া এলাকার মো. মিজানুর রহমান মিলনের ছেলে মো. তন্ময় ও কুটি মিয়ার ছেলে শিপলু এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি শিপলু ও তন্ময়কে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাকিব ও যাবজ্জীবন পাওয়া শামীম পলাতক।

আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মো. ইয়ার আলী। রায়ে আদালতের বিচক্ষণতা প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখ করে বিচারকের প্রশংসা করেন আইনজীবীরা। এদিকে এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষও।

২০১৪ সালের ১১ জুলাই কুষ্টিয়া থানাধীন বাড়াদি গ্রামের বাগারের মাঠ এলাকার জুগিয়া কদমতলা থেকে ইজিবাইক চালক মাসুদ রানার গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের রাত থেকে মাসুদ রানার খোঁজ পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। কুষ্টিয়া সদর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা ইয়ার আলী মালিথা। পরে পুলিশের তদেন্ত বেরিয়ে আসে হত্যা রহস্য এবং খুনিদের নাম।

আদালত সূত্র জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০১৬ সালের ৪ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষী ছিলেন- যারা আদালতের কাছে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেন।

রায়ে আদালত বলেছেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদেশ হয় যে, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২ ধারার সহিত পঠিত ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হলো। তাকে উক্ত ধারার অধীন মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হলো। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে গলায় ফাঁসি দ্বারা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। সেই মর্মে সাজা পরোয়ানা এবং জরিমানা আদায়ের জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৮৬(১)(ক) ধারার পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। আসামি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজার মেয়াদ উল্লেখে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে মামলার কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করা হোক। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি আপিল করতে মনস্থির করলে তিনি অবশ্যই রায়ের তারিখ হতে ৭ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। অপর আসামি মো. শামীম, শিপলুকে পেনালকোড ১৮৬০ এর ৩০২ ধারার সহিত পঠিত ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের হাজতবাস বর্তমান সাজার মেয়াদ হতে বাদ যাবে। সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হোক।’

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাকিব পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজার মেয়াদ উল্লেখ করে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে রাকিব চাইলে রায় ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে মামলার কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলেরও নির্দেশ দেন আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com