বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হত্যার অভিযোগ’ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ভেনেজুয়েলায় সরকার পতনের অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাবে ‘পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। খবর আরটির।
স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন আদালতের অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রো ও তার প্রশাসনের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিমান দুটি ফ্লোরিডাভিত্তিক কিউবান নির্বাচিত কমিউনিস্ট-বিরোধী একটি সংগঠন পরিচালনা করছিল। মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়ষন্ত্র, বিমান ধ্বংস ও চার কিউবান-আমেরিকান পাইলটকে হত্যার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবারের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা তার মাতৃভূমি থেকে মাত্র নব্বই মাইল দূরে কোনো শত্রুভাবাপন্ন বিদেশী সামরিক, গোয়েন্দা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া স্বৈরাচারী রাষ্ট্রকে সহ্য করবে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন গোয়েন্দারা সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে জানান, তাদের বিশ্বাস গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ফ্লোরিডার কিউ ওয়েস্টের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে কিউবা ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তবে হাভানা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি ‘প্রতারণামূলক অজুহাত’ তৈরি করছে।
চলতি বছর ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বারবার কিউবাকে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, ট্রাম্প কিউবার ওপর প্রায় সম্পূর্ণ জ্বালানি অবরোধ আরোপ করেন। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন- শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের তালিকায় ‘পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু কিউবা’।
বুধবারের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এক ঘোষণায় জানায়, ইউএসএস নিমিটজ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ক্যারিবীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে, যা মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানের আগের সামরিক সমাবেশেরই পুনরাবৃত্তি।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে অপহরণ করার আগেও মার্কিন বিচার বিভাগ একইভাবে তাকে অভিযুক্ত করেছিল।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অকল্পনীয় পরিণতির একটি রক্তনদী’ ডেকে আনবে। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিউবা ‘কোনো হুমকি নয়’ এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে তাদের কোনো ‘আগ্রাসী পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য নেই’।
৩০ মে স্পেন থেকে কিউবার স্বাধীনতার ১২৪তম বার্ষিকী। এই উপলক্ষ্যে প্রচারিত একটি স্প্যানিশ ভাষার ভিডিওতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও কিউবাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সঙ্গে শর্ত দিয়েছেন, এটি ‘ক্যাথলিক চার্চ বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত দাতব্য গোষ্ঠী’র মাধ্যমে বিতরণ করতে হবে ও ‘একটি নতুন কিউবা’ গঠনে সহায়তা করতে হবে- যা সম্ভবত বর্তমান সরকারের পতনের পরের ইঙ্গিত।
এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ রুবিওকে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থানরত কিউবান উগ্রপন্থীদের ‘প্রতিহিংসামূলক স্বার্থের মুখপাত্র’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।