শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিখাত। মাঠের ভুট্টা গাছ নুয়ে পড়েছে, অনেক ক্ষেতের ফসল মাটিতে লুটিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি কলা, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন শাকসবজি ও আমের বাগানেও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, ৩০ ও ২৯ /এপ্রিল সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২৬ এপ্রিল পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতে লাবনী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭) নামের দুজনের মৃত্যু হয়।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে ২৪৪টি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ঝড়ের কারণে প্রায় ২৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে ৩৮২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
উপজেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আকস্মিক এই দুর্যোগে কৃষকদের মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, খরিপ-১ মৌসুমের প্রায় ৪০ হেক্টর ভুট্টা জমি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ০.২৮ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, ০.৬৫ হেক্টর টমেটো, ৩৭৫ হেক্টর আম, ৪২ হেক্টর মরিচ, ৩.৫০ হেক্টর লিচু এবং ৫ হেক্টর কলা চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক কৃষকের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা আল্লামা ওয়াদুদ নুর আলিফ। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।