সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
এস কে এম তুষার, রাজশাহী ব্যুরো ঃ
রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান তুলিপের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা নিজেদের আড়াল করতে দলীয় ব্যানার ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
জানা যায়, গত ২৭ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা হলে রাজশাহী মহানগর যুবদলের বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান তুলিপ এর প্রতিবাদ করেন। পরে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দলীয় ব্যানার টানানোর কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হন তুলিপ। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান তুলিপের মাথায় ২৭টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
আহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই চাঁদাবাজ চক্রটি আমার স্বামীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু ঈদের আগে এভাবে প্রকাশ্যে হামলা করবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।” তিনি দাবি করেন, হেলাল, শান্ত, সৌরভ, আলম, রোহান ও পিয়াস নামের কয়েকজন ব্যক্তি এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
এদিকে রাজশাহীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে প্রকাশ্যে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন ব্যবসায়ী যদি জনসম্মুখে এভাবে হামলার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত? হামলার খবর পেয়ে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রবি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে এসেছি। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক কারবারি ছাড় পাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে সেলিনা বেগম দাবি করেন, হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।