রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
নেত্রকোনা প্রতিনিধি ॥
‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)’- এমন একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে ২০২৬) রাত আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রবিবার (৩১ মে ২০২৬) সকালে জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অডিওটি নজরে আসার সাথে সাথেই ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে যেহেতু কখনো কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই; তাই আমার অধীনে কেউ এ রকম অসৎ চিন্তা করে পার পেয়ে যাবে, তা কখনো সম্ভব হবে না।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. আবুল হাশেম। তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন,
“কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি তো জানি না। এ রকম কথা তো আমি কোথাও বলিনি। এখন আপনি যেমন জানছেন, আমিও তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার তো মনে হয় না, এমন কথা আমি কোথাও বলেছি।”
অডিও রেকর্ডে যা ছিল:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ওসি আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়- “পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।”
ওই রেকর্ডে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে-ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে- তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।”