রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের চৌরাহাটি গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন এক মৎস্যজীবী। নিখোঁজের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন দিন পর মামলা গ্রহণ করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন চৌরাহাটি গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন সরকার (৫৬)। তিনি পেশায় একজন মৎস্যজীবী।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (ঈদের দিন) সকাল ৮টার দিকে নারায়ন সরকার পাশের একটি বিলসংলগ্ন পুকুরে মাছ ধরতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চাচাতো ভাই জগদীশ সরকার এবং প্রতিবেশী নিতাই সরকার ও পরান বিশ্বাস। মাছ ধরার একপর্যায়ে পুকুরের ইজারাদার নিখিল তাদের ধাওয়া করলে জগদীশ, নিতাই ও পরান দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে এরপর থেকে নারায়ন সরকারের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পরদিন শুক্রবার তার স্ত্রী চম্পা রানী সরকার নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ঘটনার রহস্যজনক পরিস্থিতি ও পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
চম্পা রানী সরকার অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে দিন-রাত বিল ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোনো সন্ধান পাইনি। এই ঘটনায় নিখিল ও জগদীশের ভূমিকা রয়েছে বলে আমার সন্দেহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়েরা বাবার জন্য কান্না করছে। আমরা শুধু জানতে চাই তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
রোববার সকালে চম্পা রানী সরকার তার দুই কন্যা ও স্বজনদের নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনে যান। সেখানে স্বামীর সন্ধান চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, “প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছিল। পরে বাদীর সন্দেহ ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ৬৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ মৎস্যজীবীর পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।