বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও-সংক্রান্ত কাগজপত্রে জালিয়াতি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও পরবর্তী সময়ে উচ্চতর স্কেল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান কবির বকুল ১৯৯৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন থেকে বিএড স্কেল গ্রহণ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও শাহজাহান কবির তাঁর প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেলের কোড সংযোজন করেন। ওই পরিবর্তিত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ২০০৫ সাল থেকেই টাইম স্কেল এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চতর স্কেল সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এ বিষয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দীন প্রথম লিখিত অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও লিখিতভাবে জানানো হয়।

অভিযোগের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

এদিকে এমপিও-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠার মধ্যেই শাহজাহান কবির বকুলকে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের কোনো বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই একক ক্ষমতাবলে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টির চার সদস্যের এডহক কমিটির মধ্যে দুজন সদস্য দাবি করেছেন, তাঁরা শাহজাহান কবিরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করার বিষয়ে অবগত নন। এমনকি এ-সংক্রান্ত রেজুলেশন খাতায় তাঁদের কোনো স্বাক্ষরও নেই। ফলে পরিচালনা কমিটির বৈধ সিদ্ধান্ত ও সদস্যদের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছাড়া একজন সহকারী শিক্ষক কীভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেলেন- এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, এমপিও নথিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা জালিয়াতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে নেওয়া সরকারি অর্থের হিসাব নির্ধারণ করে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আক্তার বলেন, অভিযোগটি আমি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের সত্যতা, এমপিও নথিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখন নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com