বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান হারিয়েছে তাদের প্রিয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। এতদিন অপেক্ষার পর প্রয়াত এ নেতার জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন করছে দেশটি। খবর আল-জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় চার মাস পর প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হচ্ছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানটি মোট ছয় দিন ধরে চলবে। ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকসহ মোট পাঁচটি শহরে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রজেক্ট কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য রাখা হবে। আগামী সোমবার পর্যন্ত এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পর্ব চলবে এবং ওইদিন তেহরানের রাস্তায় একটি শোকমিছিল বের করা।

এরপর আগামী ৭ জুলাই এই শোকযাত্রা পবিত্র শহর কোমে এবং পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া যবে। আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরানের তার নিজ শহর মাশহাদে ফিরিয়ে এনে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি শোকাকুল মানুষ অংশ নিতে পারেন। বিশাল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো দেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।

এই ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইরানে আসছেন। এছাড়া ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারাও এতে অংশ নেবেন।

এদিকে, চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি মাসের শুরুতে সে দেশের সংসদে দেওয়া এক ভাষণে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনিও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় যোগ দেবেন।

দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন খামেনি। এটি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেয়াদ।

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ সমাবেশে তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়েছে। মূলত যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী আলোচনা প্রক্রিয়ার কারণেই এই চার মাসের বিলম্ব ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান আপেক্ষিক উত্তেজনা হ্রাসের সময়টিকে জানাজার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতা স্মারকের আলোচনা চলাকালীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখেছে। আন্তর্জাতিক মহলের সামনে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে চায় ইরান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com