বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

সাত মাস ধরে শুধু আশ্বাস, রাণীশংকৈলে ভাঙা সেতুতে দুর্ঘটনার শঙ্কা

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর এক পাশের ঢালাই ধসে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বেরিয়ে এসেছে বাঁকা লোহার রড। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

অথচ তাঁদের অভিযোগ, গত প্রায় সাত মাসে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে ছবি তুলে সংস্কারের আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।

গত ২২ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক পাশের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। ধসে পড়া অংশে তৈরি হওয়া গর্তের কারণে সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙা অংশ থেকে বেরিয়ে থাকা লোহার রড পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। বিশেষ করে রাতে আলো কম থাকায় চালকেরা গর্তটি সহজে বুঝতে না পারলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে গর্তের পাশে বাঁশ পুঁতে তাতে লাল ও পুরোনো কাপড় বেঁধে সতর্কসংকেত দিয়েছেন। তবে এ ব্যবস্থা সাময়িক। এতে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি তোলা হয়, কাজ আর শুরু হয় না

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙা অংশের ছবি তুলে নিয়ে যান। দ্রুত সংস্কারের আশ্বাসও দেন। কিন্তু সাত মাস পার হলেও বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি তাঁরা দেখতে পাননি।

স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে দেখছি, লোকজন আসে, মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি তোলে, আর বলে দ্রুত কাজ হবে। কিন্তু ছবি তোলা আর আশ্বাস দেওয়া ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। আমরা চাই, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতুটি মেরামত করা হোক।

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও শিক্ষার্থীরা

সেতুটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে এ পথ ব্যবহার করতে হয়। সেতুর এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিপরীত দিক থেকে দুটি যানবাহন এলে একটিকে অন্যটির জন্য জায়গা করে দিতে হয়। এ সময় সামান্য অসতর্কতা কিংবা ভারসাম্য হারালেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে রাতে, বৃষ্টির সময় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারীদের জন্য বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকিল হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মাণ বা সংস্কার করা জরুরি। চলাচলের জায়গা সরু হয়ে গেছে। এক পাশের গাড়িকে অন্য পাশের গাড়ির জন্য জায়গা দিতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কাজ শুরুর অপেক্ষায় এলাকাবাসী স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুটি সংস্কারে আর বিলম্ব না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু ছবি তোলা কিংবা আশ্বাস দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজ শুরুর দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান তাঁরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তাঁদের প্রশ্ন, বড় কোনো দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির পরই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে।তবে ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি কিছু জানিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন সেতুটির সংস্কারকাজ কবে শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com