মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। ‎লালমনিরহাটে স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
‎
‎​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎​নিহত মোছাঃ মিতু আক্তার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্দা ইউনিয়নের গোকুন্দা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
‎​
‎​আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুলের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে ৫ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসতেন স্বামী আতিকুল।
‎
‎​গত ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আতিকুল। ঘটনার রাতে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা চলে যেতে চাইলে স্ত্রী মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে তার মাথা ও মুখে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। এই পাশবিক নির্যাতনে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মিতু আক্তারের। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে রাতেই পালিয়ে যান স্বামী আতিকুল।
‎
‎​পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিহতের ৫ মাসের শিশুসন্তান আতিকা আক্তারের টানা কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। ঘরের ভেতর বিছানায় মিতুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
‎​
‎​চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মামলার নথি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
‎
‎​রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালত সব সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার স্থান নেই।
‎
‎​তিনি আরও জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবারও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com