রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়া এবং জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় আরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (৯ আগস্ট) সকালে মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড রোডে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
গত ১ আগস্ট লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এলাকার বাসিন্দা এবং লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর ও ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম তার কর্মস্থল থেকে বাড়ির ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। তাদের প্রভাবে এলাকার অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন এবং অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এই জুয়া খেলায় বাধা দিয়ে আসছিলেন এবং জুয়া বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরই জেরে গত ১ আগস্ট বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। লোহার রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে আহত শিক্ষকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। হামলার নয়দিন পেরিয়ে গেলেও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক। প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোববার সকালে মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড রোডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, তড়িঘড়ি করে নেওয়া আগের মামলাটি বাতিল করে প্রকৃত ঘটনা ও মূল অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে নতুন করে মামলা গ্রহণের জোরালো দাবি জানান এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় ছয়জন অনলাইন জুয়া ব্যবসায়ীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা নিয়মিত মামলায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।