সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও সৌদি আরব প্রতিনিধি ॥
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’- মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়ার এই আকুল ধ্বনিতে মুখরিত এখন পবিত্র মক্কা ও মিনার আকাশ-বাতাস। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ সোমবার (৮ জিলহজ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আনুমানিক ১৮ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালন করছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৭৮ হাজার হাজি।
মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে সূচনা
হজের নিয়ম অনুযায়ী আজ জোহর থেকে শুরু করে আগামীকাল ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুত তারভিয়া’ বলা হয়। তবে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গতকাল রবিবার রাতেই বাংলাদেশের হাজিরা মিনায় পৌঁছে গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মক্কার বাংলাদেশ হজ অফিস ও এজেন্সিগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনায় হাজিদের মিনায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। শরিয়তের বিধান মেনে হাজিরা আজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।
আগামীকাল আরাফাতের ময়দানে মহাসম্মেলন
মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) হাজিরা রওনা হবেন হজের মূল কেন্দ্রবিন্দু আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
হজের বিশেষ খুতবা:
এ বছর মসজিদ নামিরা থেকে হজের পবিত্র খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজের প্রধান রোকন। খুতবা শ্রবণ ও ইবাদত শেষে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা সেখানেই অবস্থান করবেন।
পরবর্তী করণীয়: মুজদালিফা ও কঙ্কর নিক্ষেপ
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে হজের আনুষ্ঠানিকতা কিন্তু শেষ নয়। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার দিকে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ (বুধবার) সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরবেন হাজিরা। সেদিন শুধু বড় জামারায় (শয়তানকে উদ্দেশ্য করে) কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করবেন। নিয়ম অনুযায়ী ১০ ও ১১ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো ওয়াজিব। তবে কোনো কারণে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পন্ন করতে না পারলে, সেই রাতও হাজিদের মিনায় অবস্থান করতে হবে।
পবিত্র হজের এই মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে মক্কা ও মিনার সর্বত্র এখন বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।