শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক::
র্নীতি-অনিয়ম-অবিচারের সাজায় এ বছর ব্যস্ত ছিল আদালতপাড়া। ২০১৯ সাল সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা, গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলা এবং স্কুলশিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়াকে জাবালে নূর বাসের চাপায় হত্যা মামলার রায়।
জোড়া খুনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমপিপুত্র রনির
রাজধানীর ইস্কাটনে বহুল আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় একমাত্র আসামি আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে গত ৩০ জানুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আদালত ওই রায় দেন।
২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ মে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে। পরে ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।
২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার। কয়েক বছরের বিচার প্রক্রিয়ার পর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম রায় ঘোষণা করেন।
রাজীব-দিয়াকে পিষে মারায় জাবালে নূরের দুই চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম মিম (১৬) জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় ওই পরিবহনের দুই চালকসহ তিনজনকে ১ ডিসেম্বর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দুই চালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের সুমন এবং সহকারী কাজী আসাদ। তবে কাজী আসাদ পলাতক।
২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম। সেদিনই মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে সরকারের নানা আশ্বাসে সেই আন্দোলন থেকে সরেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল- বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী চালকের ফাঁসি দিতে হবে, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিচার প্রক্রিয়ার পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন।