শনিবার, ০৬ Jun ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ওয়াশিংটন ও তেহরান ॥
ইরানে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসে রেজল্যুশন পাসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এই উদ্যোগকে ‘নিরর্থক’ ও ‘দেশপ্রেমহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই ওয়াশিংটনের। এদিকে, ওয়াশিংটনের বৈরী অবস্থানের বিপরীতে ইরানও সুর চড়া করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে, তারা তেহরানের পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। উদ্ভূত এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।
রেজল্যুশনকে ‘দেশপ্রেমহীন’ বললেন ট্রাম্প
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি নিরর্থক রেজল্যুশন পাস হয়েছে, যেখানে আমাদের দলেরই চারজন বাজে রিপাবলিকান এমপি ভোট দিয়েছেন। আমার যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতেই এই রেজল্যুশন আনা হয়েছে। অথচ এমন একসময়ে এটি পাস করা হলো, যখন আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসানসংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি।”
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে দেশটির সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। আমরা চাইলে এখনই এটি পেয়ে যেতে পারি। আমার মনে হয় না তারা আমাদের আটকাতে পারবে, তবে এর কোনো দরকার নেই। কারণ, বিষয়টি এখন নিষ্ক্রিয় বা চাপা পড়া অবস্থায় আছে।”
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠক করার এই মুহূর্তে কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো ফলপ্রসূ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবেই দুই নেতার মধ্যে বৈঠক সম্ভব। আর তেমন কিছু ঘটলে আমি অবশ্যই তাকে সম্মান প্রদর্শন করব।”
আরব দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের বিরুদ্ধে টানা ৪০ দিন লড়াই করা কোনো মজার বিষয় নয়। বিশ্ববাসী এখন ইরানি জাতির আসল শক্তি ও সক্ষমতা টের পেয়েছে।”
আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে আরাগচি বলেন, “আপনাদের ভূখণ্ডে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়, তবে সেসব ঘাঁটি আমাদের পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
১৪ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রেড অ্যালার্ট’
মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের ১৪টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, যেকোনো সময় হামলা বা বৈরী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই নাগরিকদের আগাম নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবস্থান জেনে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঝুঁকির তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দেশগুলোকে দুটি স্তরে ভাগ করেছে:
লেভেল-৩ সতর্কতা (ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার আহ্বান): এই তালিকায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও নাগরিকদের ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
লেভেল-৪ সতর্কতা (ভ্রমণ না করার কঠোর নির্দেশ): চলমান সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকি এবং চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, লেবান, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেনে মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।