বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

মেসি জাদুতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:: লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে আবারো ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের অপেক্ষা বাড়িয়ে আটলান্টায় শেষ হাসি আলবিসেলেস্তাদের। বুধবার থ্রি লায়ন্সদের ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপার শেষ মঞ্চে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের অপেক্ষায় স্পেন।

আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। যেখানে স্পেনের সামনে সুযোগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের, আলবিসেলেস্তারা চাইবে শিরোপা ধরে রাখতে। শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

সময় বদলেছে, ভেন্যু বদলেছে, বদলেছে প্রতিপক্ষ। তবে বদলায়নি আর্জেন্টিনা আর তাদের চরিত্র। আগের কয়েক ম্যাচের চিত্রনাট্য ধরেই এগোলো ম্যাচ। পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝলকে জয় তুলে নিল চ্যাম্পিয়নরা।

অথচ স্বপ্নটা যেন শেষ হয়ে যাচ্ছিল! সময় ফুরিয়ে আসছিল, ইংল্যান্ড তখন ফাইনালের খুব কাছাকাছি— ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে এলেন লিওনেল মেসি। তার সৃষ্টিতে বদলে গেল ম্যাচের গল্প। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের রূপ দেখল বিশ্ব!

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট বাকি, ১-০ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড। সেই মুহূর্তে মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন ততক্ষণে মেসি।

এই অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রাখলেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক গোল-অবদানের রেকর্ড।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। আবারো মেসির নিখুঁত ক্রস, এবার সেটিকে শক্তিশালী হেডে জালে পাঠান লাউতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা।

এর আগে, প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলশূন্য ছিল ম্যাচ। একে অপরকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। গোলরক্ষকদেরও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি, পোস্টে একটি শটও কেউ নিতে পারেনি।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড। যেন দুই দলই শারীরিক লড়াইয়ে নেমেছে। প্রথমার্ধে সব মিলিয়ে ফাউল হয়েছে ১৯টি। ১২টি করেছে আর্জেন্টিনা ও ৭টি ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের গতিপথ। মাঠে ফিরেই শুরু হয় আক্রমণ। ৪৭ মিনিটে প্রথম সুযোগটা আর্জেন্টিনাই তৈরি করে। যদিও সেই আক্রমণ থেকে গোল আসেনি। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ভালো সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

এরপর আবারো চেষ্টা করেন আলভারেজ। তবে এবার তার শট জালে নয়, গিয়ে লাগে সাইড নেটে। হতাশ হতে হয়। তবে হতাশা আরো বেড়ে যায় ৫৫ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণ থেকে মরগান রজার্সের ক্রসে গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।

পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ করে যায় তারা। বল রেখে দেয় ইংল্যান্ডের গোলপোস্টের আশেপাশেই। তাতে সুযোগ তৈরি হতে থাকে বারবার। তবে সফলতা আসেনি।

এরপর সময় যখন একেবারেই ফুরিয়ে আসছিল, তখনই মেসি ম্যাজিক। তার জোড়া অ্যাসিস্টেই ফাইনালে পৌঁছে যায় আলবিসেলেস্তারা। এবার শিরোপা ধরে রাখার পালা!

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com