বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার স্থাপনা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের দাবি, হামলাটি তাদের চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপের অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় সাত সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের ‘নাসর-২’ অভিযানের অষ্টম ধাপে ঘাঁটির আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং মার্কিন সেনাদের একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে কুয়েতের জনগণের প্রতি দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি তোলার আহ্বানও জানানো হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দফার সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কয়েকটি স্থাপনাও ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এ ধারাবাহিকতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com