মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, নবাবগঞ্জ:
মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু অভিযান নয়, এবার জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই মাঠে নেমেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে মোটরসাইকেল মহড়া, পথসভা, মাইকিং এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরছে পুলিশ।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হওয়া এ প্রচারণা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মোটরসাইকেল যোগে উপজেলার কৈলাইলের মাইলাইল, বক্সনগরের কোমরগঞ্জ, কলাকোপার আমিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মহড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল স্থানে থেমে পুলিশের সদস্যরা পথসভা করেন। সেখানে মাদকের ভয়াবহ সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়।
কোমরগঞ্জে আয়োজিত এক পথসভায় নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ বলেন, “মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শুধু পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষক, ইমাম, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী এই প্রচারণা পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে পরিচালিত হবে।
প্রচারাভিযান চলাকালে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন তল্লাশি চালায়। এ সময় একজনকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। একই সঙ্গে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা তৈরির এই কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও সতর্ক করবে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশলে কাজ করছে পুলিশ। তবে মাদক প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সচেতন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নবাবগঞ্জ থানার এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে।